শুক্রবার   ১৭ এপ্রিল ২০২৬   বৈশাখ ৪ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

বাণিজ্য চুক্তিতে রাহুলের আক্রমণ

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ০২:৫৯ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০২:৫৯ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ভারত-আমেরিকা সমঝোতা ‘পাইকারি আত্মসমর্পণ’, দাবি বিরোধী দলনেতার; মিথ্যাচারের অভিযোগে পাল্টা কেন্দ্র

বিস্তারিত খবর

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে লোকসভায় কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, এই চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী এবং “ভারতমাতাকে বিক্রি” করার সামিল। সরকারের তরফে পাল্টা দাবি, রাহুলের বক্তব্য ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

২ ফেব্রুয়ারি (ভারতীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতীয় পণ্যে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। একই সঙ্গে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানার কথা উঠেছিল, তা প্রত্যাহারের ইঙ্গিতও দেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ভারত আমেরিকা থেকে জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কৃষিপণ্য-সহ ৫০,০০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য কিনবে।

লোকসভায় বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে রাহুল বলেন, এই চুক্তির ফলে মার্কিন পণ্যের অবাধ প্রবেশ ঘটবে এবং ভারতীয় কৃষক ও পশুপালকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নেও সরকার আপস করেছে। মার্শাল আর্টের উপমা টেনে তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সরকার নতি স্বীকার করেছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বিরোধীরা দাবি করেছে, মার্কিন কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজার আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও কেন্দ্রের তরফে কৃষক-স্বার্থ ও জ্বালানি নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, চুক্তির খসড়া নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি বলে অভিযোগ।

সরকারপক্ষের কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। কেন্দ্রীয় সংসদীয়মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, রাহুলের বক্তব্য “মিথ্যায় ভরা” এবং তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরীও তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ নিয়ে সংসদে রাজনৈতিক উত্তাপ অব্যাহত। বিরোধীরা চুক্তির স্বচ্ছতা ও শর্ত প্রকাশের দাবি তুলছে, অন্যদিকে সরকার বলছে, এই সমঝোতা ভারতের রপ্তানি ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করেই