শুক্রবার   ১৭ এপ্রিল ২০২৬   বৈশাখ ৪ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

তিন বোনের আত্মহত্যা, তদন্তে গেম

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ০৪:৩৩ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৪:৩৩ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার

উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদে তিন কিশোরী বোনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এল। মৃত তিন বোনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে সুইসাইড নোটে উল্লেখ থাকা পাঁচটি অনলাইন গেম নিষিদ্ধ করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার প্রায় তিন মাস আগে কিশোরীদের একটি মোবাইল ফোন বিক্রি করে দেন তাঁদের বাবা চেতন কুমার। পরে আরও একটি ফোন বিক্রি করা হয়। মোট দু’টি ফোন কাদের কাছে বিক্রি হয়েছিল, তা জানতেই ওই ফোনগুলি উদ্ধার করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, উদ্ধার হওয়া ফোনগুলিতে কিশোরীরা কী ধরনের অনলাইন গেম, ভিডিও, গান বা ছবি দেখত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, অনলাইন গেমে অতিরিক্ত আসক্তিই আত্মহত্যার কারণ হতে পারে। তবে শুধু গেম নয়, পরিবারের অন্দরের অশান্তির ইঙ্গিতও মিলেছে কিশোরীদের ডায়েরিতে। সেই কারণেও তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই মৃত্যুর নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) নিমিশ পাটিল জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে পাঁচটি অনলাইন গেমের নাম উল্লেখ রয়েছে। সেগুলি হল— পপি প্লেটাইম, দ্য বেবি ইন ইয়েলো, ইভিল নান, আইসক্রিম ম্যান এবং আইসক্রিম গেম। এই গেমগুলিকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা পরে কেন্দ্রের কাছেও যাবে।

ডিসিপি স্পষ্ট করেছেন, এখনও পর্যন্ত খুনের প্রমাণ মেলেনি। তাই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসাবেই ধরে তদন্ত এগোচ্ছে। পাশাপাশি দিল্লিতে গিয়ে কিশোরীদের মামারবাড়ির সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশের একটি দল।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার গাজ়িয়াবাদের একটি বহুতলের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে তিন বোন আত্মহত্যা করে। কেন এই চরম সিদ্ধান্ত, তা জানতে অনলাইন গেমের প্রভাবের পাশাপাশি পারিবারিক পরিস্থিতি—দুই দিকই সমান্তরাল ভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।