শনিবার   ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ভাদ্র ২১ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

২৯ না ৩০—রমজান নিয়ে হিসাব

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ০৬:২৫ পিএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার | আপডেট: ০৬:২৫ পিএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুযায়ী ২০২৬ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরুর তারিখ নিয়ে মুসলিম বিশ্বে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। খালি চোখে চাঁদ দেখা ও বৈজ্ঞানিক হিসাবের পার্থক্যের কারণে কোনো দেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি, আবার কোথাও ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য এবং এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, রমজান শুরুর ক্ষেত্রে মতভেদ থাকলেও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা এবং ঈদুল ফিতরের তারিখ অধিকাংশ দেশে প্রায় একই সময়ে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, আগামী ২০ মার্চের দিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম ‘এমারাত আল ইউম’-এর বরাতে আল জারওয়ান জানান, মহাকাশ গবেষণা ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী এ বছর রমজান মাস ২৯ দিনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে রোজা শুরু হতে পারে।

জানা গেছে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ বা ১৪৪৭ হিজরি সালের রমজানের নতুন চাঁদ জন্ম নেবে ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সংযুক্ত আরব আমিরাত সময় বিকেল ৪টা ১ মিনিটে। তবে ওই দিন সূর্যাস্তের মাত্র এক মিনিট পরই চাঁদ ডুবে যাবে। তখন চাঁদের বয়স হবে মাত্র ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট, ফলে খালি চোখে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সূর্যাস্তের পর চাঁদ স্পষ্টভাবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে অনুযায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজানের প্রথম দিন হতে পারে। যদি মাসটি ২৯ দিনে সম্পন্ন হয়, তাহলে ১৯ মার্চ হবে শেষ রোজা এবং ২০ মার্চ (শুক্রবার) ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে।

রমজান মাসে রোজার সময়সীমাও ধীরে ধীরে বাড়বে। আবুধাবিতে মাসের শুরুতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট। তবে সাহ্‌রি থেকে ইফতার পর্যন্ত রোজার সময় হবে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট। মাসের শেষ দিকে দিনের দৈর্ঘ্য বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১২ ঘণ্টা ১২ মিনিট এবং রোজার সর্বোচ্চ সময় হবে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন অঞ্চলে সাহ্‌রি ও ইফতারের সময়েও পার্থক্য দেখা যাবে। পূর্ব উপকূলীয় খোরফাক্কান এলাকায় আবুধাবির তুলনায় প্রায় ৮ মিনিট আগে সাহ্‌রি ও ইফতার হবে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় আল সিলা ও আল ঘুওয়াইফাত এলাকায় রাজধানীর তুলনায় প্রায় ১২ মিনিট দেরিতে ইফতার করবেন রোজাদাররা। ফলে পুরো দেশে সাহ্‌রি ও ইফতারের সময়ের পার্থক্য সর্বোচ্চ ২০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।