বিশ্বকাপে সুযোগ, ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে অঘটনের স্বপ্ন স্কটল্যান্ডের
পুষ্প প্রভাত ডেস্ক
পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা
প্রকাশিত : ১০:০৪ এএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ১০:০৪ এএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার
শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপে সুযোগ, ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে অঘটনের স্বপ্ন স্কটল্যান্ডের
কলকাতা | নিজস্ব প্রতিবেদন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর ক’দিন। ঠিক এমন সময়েই অপ্রত্যাশিত ভাবে বিশ্বমঞ্চে নামার সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশের জায়গায় শেষ মুহূর্তে সুযোগ পেয়ে প্রস্তুতির অভাব থাকলেও সেটাকে পিছনে ফেলে ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে চমক দেখানোর লক্ষ্য নিয়েই নামছে স্কটিশরা।
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ১৪ দিন আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এত অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি, স্পনসর জোগাড় এমনকি জার্সি তৈরি—সব কিছুই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় তাদের কাছে।
বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক দিন আগেও স্কটল্যান্ডের জার্সি প্রস্তুত ছিল না। ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে পুরনো জার্সি পরেই মাঠে নামতে হতে পারে ক্রিকেটারদের। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কোনও রকমে নতুন জার্সির ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। নীল রঙের সেই জার্সি ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
গ্রুপ সি-তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়, ইংল্যান্ড, ইটালি ও নেপালের সঙ্গে লড়াই করবে স্কটল্যান্ড। আগে এই গ্রুপেই ছিল বাংলাদেশ। অভিজ্ঞতা ও শক্তির বিচারে স্কটল্যান্ড অনেকটাই পিছিয়ে—এ কথা মেনে নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরাও। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অঘটনের নজির নতুন নয়, আর সেই অঘটন ঘটানোর স্বপ্নই দেখছে স্কটিশ শিবির।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই নিয়ে সপ্তম বার খেলতে নামছে স্কটল্যান্ড। এখনও পর্যন্ত তারা ২২টি ম্যাচ খেলে সাতটিতে জয় পেয়েছে। এক দিনের বিশ্বকাপে তিন বার খেললেও সেখানে এখনও জয় অধরা। তা সত্ত্বেও পরিসংখ্যান বলছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের জয়ের হার বাংলাদেশের থেকেও সামান্য বেশি।
শেষ মুহূর্তে সুযোগ পাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা অপ্রস্তুত স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ ট্রুডি লিন্ডব্লেড স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই অংশগ্রহণ পরিকল্পিত ছিল না। তাঁর কথায়, “বিশ্বকাপের নির্দিষ্ট বাছাই প্রক্রিয়া রয়েছে। আমরা কখনও এই ভাবে সুযোগ পেতে চাইনি। পরিস্থিতির কারণে আমরা খেলছি। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য সত্যিই খারাপ লাগছে।”
স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট পরিকাঠামো এখনও সীমিত। কোচ, কর্তা ও কর্মী মিলিয়ে মোট জনবল তিরিশের কিছু বেশি। একই সময়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দল বিশ্বকাপে খেলছে, মহিলা দল রয়েছে নেপাল সফরে। এই চাপের মধ্যেই সিনিয়র দলকে বিশ্বকাপে নামাতে হচ্ছে।
তবু আত্মবিশ্বাসী লিন্ডব্লেড। তাঁর দাবি, “আমাদের ক্রিকেটারেরা সারা বছর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলে। র্যাঙ্কিংয়ে আমরা ১৪ নম্বরে। সুযোগ পেলে আমরা সেটার সদ্ব্যবহার করতে চাই।”
শনিবার ইডেনে স্কটল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তুলনামূলক ভাবে কম। এখনও পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হয়েছে তিন হাজারেরও কম। তবে স্কটল্যান্ড যদি প্রথম ম্যাচেই অঘটন ঘটাতে পারে, তা হলে চিত্র বদলাতে সময় লাগবে না—এমনটাই বিশ্বাস স্কটিশ শিবিরের।
বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের লক্ষ্য একটাই—শেষ মুহূর্তে পাওয়া সুযোগ যেন বৃথা না যায়।
