মঙ্গলবার   ০৭ জুলাই ২০২৬   আষাঢ় ২২ ১৪৩৩   ২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

মোবাইলের যুগে বইয়ের ডাক, সাগরদিঘীতে শুরু বই মেলা

আনারুল হক

পুষ্পপ্রভাত পত্রিকা

প্রকাশিত : ১১:০৫ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ১১:০৫ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার

সাগরদিঘী, মুর্শিদাবাদ : আনারুল হক

চার বছরের বিরতির পর ফের বইয়ের উৎসবে মুখর সাগরদিঘী। সোমবার (২৬ জানুয়ারি, ২০২৬) সাগরদিঘীর এস এন হাইস্কুল ময়দানে শুরু হল ৬ দিনের বই মেলা। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার উদ্যোগে এবং সাগরদিঘী বই মেলা কমিটির পরিচালনায় আয়োজিত এই মেলা ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সাগরদিঘী কোনও শহর না হলেও এখানে নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে এবারের বই মেলা হয়ে উঠেছে আরও বেশি জমজমাট।

বই মেলার উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অমিত কুমার সাউ বলেন,

“আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সমাজ গঠনের দায়িত্বও পুলিশের। সমাজ শান্তিতে থাকলেই পুলিশও শান্তিতে কাজ করতে পারে। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বাড়লেও চিন্তার গভীরতা আসে বই থেকে। বই মেলার মতো উদ্যোগ তরুণদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।”

পুলিশ সুপারের মতে, এই ধরনের বই মেলা এলাকায় ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

একই বক্তব্য শোনা যায় জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানের কণ্ঠেও। তিনি বলেন,

“বই মানুষের জ্ঞান গঠনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। শহরের বাইরে মফসল এলাকায় বই মেলার আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে জ্ঞানের দরজা খুলে দেয়।”

সাংসদের মতে, গ্রাম ও মফসল এলাকার ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গঠনে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাগরদিঘীর মতো এলাকায় বই মেলা মানে শুধুই বই কেনা নয়। এটি হয়ে ওঠে মোবাইলের বিকল্প এক সামাজিক পরিসর। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা এবং লেখক-পাঠকের মুখোমুখি হওয়া—সব মিলিয়ে বই মেলা তৈরি করে এক আলাদা সাংস্কৃতিক পরিবেশ।

চার বছরের বিরতির পর ফের শুরু হওয়া এই বই মেলাকে অনেকেই দেখছেন প্রশাসনের সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে। সব মিলিয়ে, সাগরদিঘীর এস এন হাইস্কুল ময়দানে প্রথম দিনেই বই মেলায় এলাকাবাসীর উৎসাহ ও আনন্দের চিত্র ছিল চোখে পড়ার মতো।